মাগুরা প্রতিদিন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ও প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা পেল মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষ। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে থাকা সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিত নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেন।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্র জানায়, নিতাই রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে পছন্দের লোকজন দিয়ে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার-বীজ আত্মসাৎ, সরকারি ধান কেনাবেচায় সিন্ডিকেট, পছন্দের ব্যক্তিদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলেছেন দলের একাংশ। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিতরা রোববার বিকেল ৩টায় মহম্মদপুরের ধোয়াইল বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, একই দিনে মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারের ১৮০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে সমাবেশের আয়োজন করেন নিতাই রায় চৌধুরী সমর্থিতরা।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উভয় পক্ষ নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করার পাশাপাশি লাঠিসোঁটা প্রস্তুত করা হলে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় শনিবার রাতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দুই পক্ষের কর্মসূচি স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই রাতেই নিতাই রায় সমর্থিতরা সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।
তবে রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিতরা রোববার দুপুরের আগেই মিছিল নিয়ে মহম্মদপুর উপজেলা সদরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ বিকেল ৩টার দিকে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ও প্রশাসনের আশ্বাসের কথা জানান। এতে তারা শান্ত হন এবং কর্মসূচি স্থগিত করেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তথাকথিত সিন্ডিকেটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিক্ষুব্ধদের জানালে তারাও আশ্বস্ত হয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন।”
তবে সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, মাগুরা-২ আসনে মনোনয়নকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নিয়ন্ত্রণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিতাই রায় চৌধুরী ও রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।